অনুমোদনের অপেক্ষায় আরো ৩ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

১৫ মে, ২০২২ ১৮:২৩  
ঢাকার ৬২টিসহ দেশে বর্তমানে মোট ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তবে সক্রিয় রয়েছে ৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে রয়েছে ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তবে অনুমোদন নেওয়ার পরও নানান জটিলতায় কার্যক্রম শুরু হয়নি ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়। এবার নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে ১০৭টি আবেদন। এর মধ্যে ১৫টি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩টিই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আবু নোমান হাওলাদার নামের একজন উদ্যোক্তা ঢাকায় ‘ইউনিভার্সিটি অব মডার্ন টেকনোলজি’ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন করেছেন। সূত্রমতে, এই ব্যক্তি একজন প্রকৌশলী। বুয়েটের যন্ত্রপ্রকৌশল বিভাগের এক সময়ের শিক্ষার্থী বিবিএস কেবলস্ এর চেয়ারম্যান এবং নাহী গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। বাকি দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সিলেটে এবং অপরটি চাঁদপুরে। চাঁদপুরের এই বিশ্ব বিদ্যালয়টির নাম দেয়া হয়েছে ‘অ্যাপোলো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’। বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য আবেদন করেছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শামসুল আলম ভুঁইয়া। আর সিলেটে ‘টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনের জন্য আবেদন করেছেন আহমদ আল কাবির নামের এক উদ্যোক্তা। তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সীমান্তিক এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রিসার্চ ট্রেনিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট” (আরটিএম) ইন্টারন্যাশনাল এর প্রতিষ্ঠাতা। নগরীরর টিবিগেইট এলাকায় আরটিএম কমপ্লেক্সে প্রাথমিকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস হবে কোম্পানিগঞ্জের বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে। ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় তিনটি পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। প্রতিবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আবু ইউসুফ মিয়া জানিয়েছেন পরিদর্শন প্রতিবেদনগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদনের জন্য সম্মতি এলে তাদের অনুমোদন দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ এর অধীনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদনের জন্য উদ্যোক্তাদের আবেদন জমা দিতে হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। আবেদনের ভিত্তিতে ইউজিসি পরিদর্শন রিপোর্ট জমা দিলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এই নিয়ম মেনেই ঢাকা থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছে দেশের প্রথম প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)। এছাড়াও বেশ প্রভাবের সঙ্গেই শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (এইউএসটি), বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি), ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (এডিইউএসটি) এবং শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি। এছাড়াও গাজীপুরে রয়েছে বিশ্বের অনন্য বেসরকারি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। চট্টগ্রামে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রাম (ইউএসটিসি)। চাঁপাইনবাবগঞ্চে এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (ইবিএইউবি); নাটোরে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএইউইটি) এবং কুমিল্লায় বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএআইইউএসটি) বেসরকারি ভাবে প্রযুক্তি শিক্ষা দিচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) প্রস্তাবনায় গাজীপুরে কালিয়াকৈরে  স্থাপিত ডিজিটাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি সরকারি ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও বুয়েট ও শাবিপ্রবির মতো রুয়েট, কুয়েট ও চুয়েট এর পাশাপাশি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পিরোজপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে প্রযুক্তি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলছে সরকার।